মীর জেসান হোসেন তৃপ্তী: গত বছরের মার্টিন লুথার কিং (এমএলকে) দিবস উদযাপনের সময় একটি সাধারণ প্রশ্নই বদলে দিয়েছে একজন শিক্ষার্থীর পুরো যাত্রাপথ। এক বছর পর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প ও অধ্যবসায়ের ফলস্বরূপ, ইস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটির (EMU) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাজ রহমান অর্জন করেছেন মর্যাদাপূর্ণ “ইভান্স-স্ট্র্যান্ড পিস অ্যাওয়ার্ড”।নোবেল শান্তি পুরস্কারের আদলে প্রণীত এই সম্মাননা ইএমইউ-এর এমন একজন শিক্ষার্থীকে প্রদান করা হয়, যিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া, বৈচিত্র্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরিতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। এ বছর এই সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন রাজ রহমান। পুরস্কারের আওতায় তিনি ১,০০০ মার্কিন ডলারের স্কলারশিপ লাভ করেন। ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ইএমইউ স্টুডেন্ট সেন্টারে অনুষ্ঠিত এমএলকে প্রেসিডেন্সিয়াল মধ্যাহ্নভোজে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ রহমানকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
পুরস্কার গ্রহণের অনুভূতি প্রকাশ করে রাজ রহমান বলেন,
“গত বছর আমি কেবল এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম এবং নিজেকে একটি প্রশ্ন করেছিলাম—আমি কীভাবে এই পুরস্কারটি পেতে পারি? সেই কৌতূহল থেকেই আজকের এই অর্জন। এক বছরের দৃঢ় সংকল্প, ধারাবাহিকতা ও অধ্যবসায় আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। স্বপ্ন তাদেরই ধরা দেয়, যারা হাল ছাড়তে অস্বীকার করে।”
তিনি আরও বলেন,“এই পুরস্কারটি আমার কাছে সবকিছু, কারণ এটি এমন বিষয়গুলোকে স্বীকৃতি দেয় যেগুলোকে আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই—মানুষ, অন্তর্ভুক্তি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সহানুভূতি। এগুলো শুধু আদর্শ নয়, প্রতিদিনের চর্চা।”উল্লেখ্য, রাজ রহমান ইএমইউ-এর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ২০২৪ সালের শরৎ সেমিস্টারে ইনস্টিটিউট ফর স্টেম এডুকেশন, আউটরিচ অ্যান্ড ওয়ার্কফোর্স ডেভেলপমেন্ট (EMU STEM Ed Institute)-এ স্নাতক সহকারী হিসেবে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি ওয়াসটেনাও কাউন্টির কে–১২ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও কমিউনিটির জন্য হাতে-কলমে স্টেম কার্যক্রম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।তার নেতৃত্বে পরিচালিত কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে সার্কিট্রি, লাভা ল্যাম্প ও রোবোটিক্স বিষয়ক প্রশিক্ষণ, যা শিক্ষার্থীদের স্টেম শিক্ষা ও দক্ষ পেশায় আগ্রহী করে তুলছে।
ইএমইউ স্টেম এড ইনস্টিটিউটের পরিচালক সিভ্রিনা কলিন্স রাজ রহমান সম্পর্কে বলেন,“রাজ আমাদের দলের একজন প্রতিভাবান ও অনুপ্রেরণাদায়ক সদস্য। ক্যাম্পাসে আগত অল্পবয়সী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের তার সক্ষমতা সত্যিই অসাধারণ। নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ ও নিষ্ঠার কারণে সে এই পুরস্কারের সম্পূর্ণ যোগ্য। আমরা তাকে নিয়ে গর্বিত।কৌতূহলী পর্যবেক্ষক থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পুরস্কার বিজয়ী—রাজ রহমানের এই যাত্রা প্রমাণ করে, একটি সাহসী প্রশ্ন ও নিরলস প্রচেষ্টা মানুষকে কত দূর এগিয়ে নিতে পারে।

