আওরঙ্গজেব কামাল : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আজ এক ভিন্ন আমেজে মুখর। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫-এর ভোটগ্রহণ। ইতিমধ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন কাঙ্খিত ফলের আশায় রয়েছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা।ভোর থেকে শিক্ষার্থীরা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন। টিএসসি কেন্দ্রে প্রথম চার ঘণ্টায় প্রায় ৫০শতাংশ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। অন্যান্য কেন্দ্রেও সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইনের পরও তারা আনন্দের সঙ্গে ভোট দিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে ৮টি কেন্দ্র ও ৮১০টি বুথ স্থাপন করেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা, নিরাপত্তাকর্মী ও অতিরিক্ত কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বড় কোনো অনিয়ম ঘটেনি। আর কিছুক্ষণ পরেই ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সরকারি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডাকসু নির্বাচন হলো জাতীয় নির্বাচনের মডেল। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ডাকসুতে অনেক বছর পর একটা নির্বাচন হচ্ছে, এটা জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটা মডেল হিসেবে কাজ করবে।“ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পর্যবেক্ষকরা সতর্ক অবস্থায় আছেন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভোটাররা জানিয়েছেন, সাধারণত শান্তিপূর্ণ হলেও আজ কিছু কেন্দ্রে ভোটকক্ষ দখল, লিফলেট বিতরণ ও অননুমোদিত প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, যা নির্বাচনের উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। শিবির সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু প্রশাসন তা আবার স্বীকার করেন। এছাড়া এক পক্ষ অভিযোগ করছে, কিছু কেন্দ্রে জাল ভোট ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হচ্ছে।অন্য পক্ষ দাবি করছে, তাদের ভোটারদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে বাধা তৈরি করা হচ্ছে। ফলে ভোটগ্রহণ ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে সব মিলিয়ে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ভোট গণনা চলছে। ভোটাররা আশা করছেন, নির্বাচিত নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা করবে, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং যেকোনো অনিয়ম রোধ করবে। অনেক শিক্ষার্থীই ভোট দিতে এসে উৎসবমুখর পরিবেশ অনুভব করছেন। ভোটাররা আশা করছেন, নির্বাচিত নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা করবে, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং যেকোনো অনিয়ম রোধ করবে। অনেক শিক্ষার্থীই ভোট দিতে এসে উৎসবমুখর পরিবেশ অনুভব করছেন। উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার নির্বাচনের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ছাত্রদল–সমর্থিত এক প্রার্থী ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করায় তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভোটারদের অনেকে বলেছেন, দীর্ঘ বিরতির পর ডাকসু নির্বাচন হওয়ায় তারা আনন্দিত।
তারা আশা করছেন, নির্বাচিত নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।ডাকসু নির্বাচনের জন্য পাঁচ পাতার এবং হল সংসদের জন্য এক পাতার ব্যালট ব্যবহার করা হয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও দলীয় আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন স্বতন্ত্র ভিপি পদপ্রার্থী তাহমিনা আক্তার। এবার ডাকসুর ২৮টি পদের জন্য ৪৭১ জন এবং ১৮টি হল সংসদের ২৩৪টি পদের জন্য ১ হাজার ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন ভোটারকে মোট ৪১টি ভোট দিতে হবে।সকাল থেকেই পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে সকাল থেকেই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া।ভোট শুরুর পর আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ দু-একটি অভিযোগ উঠলেও নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু হওয়ায় উৎসব আমেজে শেষ হয়েছে ভোটগ্রহণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান।ডাকসু নির্বাচনে স্বচ্ছতার ঘাটতি নেই বলেও দাবি করেন তিনি।উপাচার্য বলেন, ‘কার্জন হলে ভুলক্রমে একটি ছোট সমস্যা হয়েছে। তার জন্য আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি। তবু এই ঘটনার আমরা পুনরায় তদন্ত করে কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেব।

