বলেশ্বর নদীর চর সাঈদখালী এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে তিনটি ড্রেজার এবং সংশ্লিষ্ট ৬ জনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) (ভারপ্রাপ্ত) হাসান বীন মুহাম্মদ আলী এবং ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মারুফ হোসেন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে আটককৃত ৬ জনের প্রত্যেককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এর মধ্যে চারজন জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পান। তারা হলেন, পিরোজপুর সদর উপজেলার রানীপুর গ্রামের মৃত সুলতান বেপারীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৪০), কৃষ্ণনগরের মোকাম্মেল তালুকদারের ছেলে জালাল তালুকদার (৪০), বাদুরার ফজলুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান (৪৫) ও শাহাজাহান খানের ছেলে মিজান খান (৩৪)। অপর দুইজন আব্দুল্লাহ আল মামুন ও লিটন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। আটককৃত ড্রেজার তিনটির নাম আলহামদুলিল্লাহ’, ‘রানা রেজা’ ও ‘মাহিম নাহিদ’।
এ ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে সাংবাদিকরা একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান বীন মুহাম্মদ আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে সাংবাদিকরা উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে, অজ্ঞাত কারণে তাদের ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্যও সরবরাহ করা হয়নি।
তবে পরে ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মারুফ হোসেন সাংবাদিকদের ফোন করে ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান বীন মুহাম্মদ আলী বলেন, “নদীর বালুমহাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ৩টি ড্রেজারসহ ৬ জনকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” পরিবেশ ও আইনি দৃষ্টিকোনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করে। বলেশ্বর নদীর মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে এমন কার্যকলাপ নদীর গতিপথ পরিবর্তন, তীরভাঙ্গন এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাসের কারণ হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসনের এমন অভিযান প্রশংসনীয় হলেও, গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় ও তথ্যপ্রদানে স্বচ্ছতা বজায় রাখা গণতান্ত্রিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

