আশুলিয়া প্রতিনিধি: ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় একটি হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর বাদী ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে জানা গেছে।
মামলার বাদী মোঃ খাজা মিয়া জানান, গত ১৯ জুন ২০২৬ তারিখে আশুলিয়ার উত্তর গাজীরচট আনারকলী মোড় এলাকায় তার ভাড়া বাসায় ডিস সংযোগের বিল সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তার স্ত্রী মোছাঃ জবা গুরুতর আহত হন এবং তিনিও মারধরের শিকার হন।
এ ঘটনায় ২২ জুন ২০২৬ তারিখে আশুলিয়া থানায় মামলা নং-১৪০ দায়ের করা হয়। মামলায় মোঃ রিপন, মোঃ সেলিম, মোঃ জুয়েল, মোঃ জাহিদ, মোছাঃ ময়না, মোছাঃ সকিনা ও মোঃ মিরাজ ফকিরসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে বাসায় প্রবেশ করে হামলা, মারধর, শ্লীলতাহানির চেষ্টা, ভাঙচুর এবং নগদ অর্থ লুটপাটের ঘটনা ঘটায়।
বাদী খাজা মিয়ার অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিপক্ষ বিভিন্নভাবে তাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছে। পাশাপাশি প্রকাশ্যে ও গোপনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। বিভিন্ন সময়ে আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে এবং হুমকি দিচ্ছে। যে কোনো সময় আমার বা পরিবারের সদস্যদের ওপর আবারও হামলা হতে পারে।”
খাজা মিয়া আরও দাবি করেন, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন অতীতে আওয়ামী লীগপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও প্রভাব ও ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামলার পর থেকে পরিবারটি চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছেন না এবং সব সময় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
এ পরিস্থিতিতে খাজা মিয়া প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অপরদিকে, আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। হুমকির অভিযোগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

