বিশেষ প্রতিনিধি : রাজধানী ঢাকায় জ্ঞানচর্চা ও উন্নয়ন ভাবনার এক ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও উন্নয়ন চিন্তাবিদ আহমদ নিয়াজ রচিত বহুল প্রতীক্ষিত গ্রন্থ “দ্য গ্যালাক্সি অব ডেভেলপমেন্ট”-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। আর্মি গলফ ক্লাবের পাম ভিউ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, উন্নয়নকর্মী, কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সরব উপস্থিতিতে এক অনন্য জ্ঞানসমৃদ্ধ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানটি কেবল একটি বই উন্মোচনের আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; বরং এটি ছিল রাষ্ট্রগঠন, উন্নয়ন দর্শন, সমাজ-অর্থনীতি ও মানবিক অগ্রগতিকে নতুনভাবে ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। বক্তারা উন্নয়নকে ঘিরে নতুন প্রজন্মের চিন্তা, গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ এবং টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন বিশ্লেষক প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, “এই গ্রন্থ উন্নয়ন গবেষণার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী সংযোজন। এর আলোচনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র বিনির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারি।” তিনি আরও বলেন, গবেষণাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ছাড়া টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “প্রফেসর নিয়াজের এই গ্রন্থটি আমাদের উন্নয়ন গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. বরকতে খোদা, প্রফেসর ড. তাজুল ইসলাম, কমোডর মীর ইমদাদুল হক, কর্ণেল রউফ, শেখ মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ও ঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল, বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান প্রযোজক মোহাম্মাদ মোরশেদ আলম প্রিন্স, লায়ন খান আখতারুজ্জামান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কেন্দ্রের পরিচালক শেখ শরিফ উদ্দিন মিঠুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, “দ্য গ্যালাক্সি অব ডেভেলপমেন্ট” কেবল একটি গ্রন্থ নয়; এটি উন্নয়ন ভাবনার একটি সমন্বিত রূপরেখা, যেখানে রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতির বিভিন্ন দিককে গভীর বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। বইটি নীতিনির্ধারক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রকাশক আফাজুল বাশার উপস্থিত সকল অতিথি, আয়োজক এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সার্বিকভাবে, এই আয়োজনটি দেশের উন্নয়ন ভাবনা ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে উপস্থিত বক্তা ও অতিথিরা অভিমত ব্যক্ত করেন।

