নিজস্ব প্রতিবেদক: নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে। নারী প্রধান পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টা ১৮ মিনিটে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপে বাটন প্রেস করে এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ভাতার অর্থ সুবিধাভোগী নারীদের কাছে পৌঁছে যায়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উপস্থিত ১৭ জন নারীর হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।কড়াইলের সাততলা বস্তিতে বসবাসকারী ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্ত রিনা বেগম খুশিতে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। জীবনে স্বপ্নেও ভাবিনি এই কার্ড হাতে পাবো। এই টাকা দিয়ে আমার পরিবারের অনেক সাহায্য হবে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নারীর ক্ষমতায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী এই প্রতিশ্রুতি দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিল। সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি চালু করা হলো।প্রথম পর্যায়ে ঢাকাসহ দেশের ১৪টি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প চালু হয়েছে। এতে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী প্রধান পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন।এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বনানী টিএন্ডটি মাঠে পৌঁছান। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে কড়াইল ও আশপাশের এলাকায় ভোর থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী নারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সকাল হওয়ার আগেই শত শত নারী উদ্বোধনী স্থানে জড়ো হন এবং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অধীর আগ্রহে কার্ড পাওয়ার অপেক্ষা করেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা ইউসুফ আল মাদানী। এরপর বিএনপির দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে ‘সবার আগে স্বাবলম্বী পরিবার, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।পাইলট প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর সার্কেল (শাহ আলী ওয়ার্ড-৮), আলিমিয়ার টেক বস্তি (ওয়ার্ড-১৪) ও বাগানবাড়ি বস্তিসহ দেশের বিভিন্ন জেলার আরও কয়েকটি এলাকায় এই কর্মসূচি চালু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ।ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয়েছে একটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারভিত্তিক পদ্ধতিতে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে ডাবল ডিপিং (একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগী ইত্যাদি বিষয় বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে নির্বাচন করা হয়।
প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচকের ভিত্তিতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় এতে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা কোনো ধরনের ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত নারীরা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। তবে এই সময় তারা অন্য কোনো সরকারি ভাতা পাবেন না। যদিও পরিবারের অন্য সদস্যরা কোনো সুবিধা পেয়ে থাকলে তা বহাল থাকবে।

