ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) থেকে এস এম মনিরুজ্জামান : পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় একটি নড়বড়ে কাঠের সেতু দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে শতাধিক মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের বালিপাড়া ও পশ্চিম চরবলেশ্বর গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একটি খালের ওপর নির্মিত কাঠের সেতুটিই এই দুই গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে কচা নদী থেকে জোয়ারের পানির সঙ্গে অতিরিক্ত কচুরিপানা খালের ভেতরে প্রবেশ করলে তীব্র স্রোতের চাপে সেতুটি হেলে পড়ে। পরে স্থানীয়রা কোনো রকমে দড়ি দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে সেতুর উপরের অংশ স্থির রাখার চেষ্টা করেন। বর্তমানে সেতুটি অত্যন্ত নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো সময় খালের মধ্যে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন পার্শ্ববর্তী বালিপাড়া ইউনিয়ন আলিম মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীসহ দুই গ্রামের শতশত মানুষ ঝুঁকি নিয়েই এই সেতু পার হচ্ছেন। চলাচলের সময় সেতুটি ভেঙে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।এ বিষয়ে দ্রুত সেতু মেরামতের দাবি জানিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত আবেদন করেছেন। ইউএনও সেতুটি দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিলেও এক মাস আগে কাজ শুরুর কথা থাকলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রিয়াদ জানান, “সেতুটি ভেঙে গেলে চরবলেশ্বরসহ আশপাশের গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে তিন কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে মাদ্রাসায় যেতে হবে। এতে আমাদের পড়াশোনায় মারাত্মক সমস্যা হবে।”এ বিষয়ে স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক মো. ফোরকান হোসেন বলেন, “সেতুটি দ্রুত মেরামতের জন্য আমরা মাদ্রাসার পক্ষ থেকে ইউএনও এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বাবুল জানান, “সেতুটি ভালোভাবে মেরামতের জন্য এডিপি (ADP) তহবিল থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আশা করছি আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই মেরামতের কাজ শুরু করা যাবে।এলাকাবাসীর দাবি, যেকোনো বড় দুর্ঘটনার আগেই দ্রুত সেতুটি মেরামত বা স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।

