স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি কথিত “সাংবাদিক প্লটে” অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে রূপনগর থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেটের দাবি করা বিরোধপূর্ণ জমির একটি অংশকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জমিটির ওপর স্থিতাবস্থা (Status Quo) বহাল রয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশনা কার্যকর থাকা অবস্থায় কোনো পক্ষেরই জমিতে নতুন স্থাপনা নির্মাণ, দখল পরিবর্তন বা অন্য কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। অভিযোগ রয়েছে, “সাংবাদিক” পরিচয় ব্যবহার করে কয়েকজন ব্যক্তি বিরোধপূর্ণ জমির একটি অংশ দখলে রেখে সেখানে নিয়মিত অবস্থান করতেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের বেলায় ওই স্থানে মাদক সেবনের আড্ডা বসত, যা এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি করে। গত রাতে ডিবি পুলিশের একটি দল এসআই ইব্রাহিমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করে। পরে তাদের রূপনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
১. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন
২. মোহাম্মদ খোকন
৩. মো. শফিকুল ইসলাম হৃদয়
৪. মোহাম্মদ রাজু
৫. মোহাম্মদ আব্দুর রহিম
৬. মোহাম্মদ ইউসুফ ইসলাম
৭. মো. ইব্রাহিম
রূপনগর থানার ওসি (অপারেশন) মো. তারিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এদিকে, অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, আদালতের স্ট্যাটাস কো বহাল থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ওই প্লটে নিয়মিত লোকজনের অবস্থান ও অবৈধ কর্মকাণ্ড চলছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা আরও অভিযোগ করেন, এই ঘটনায় আরও কয়েকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে এবং বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান।স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সাংবাদিকতার পরিচয় কখনোই আইন লঙ্ঘন বা কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের আড়াল হতে পারে না। কেউ যদি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তবে তার বিরুদ্ধেও অন্য যেকোনো নাগরিকের মতোই আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

