বিশেষ প্রতিনিধি : রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক ও জনবহুল এলাকা মিরপুর-১০ নম্বর ফুটপাতকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে দাবি করেছেন স্থানীয় হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।সরেজমিনে এলাকা ঘুরে ব্যবসায়ী, পথচারী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ফুটপাত এলাকায় ব্যবসায়ীরা তুলনামূলকভাবে স্বস্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে জোরপূর্বক অর্থ প্রদান করতে হচ্ছে না এবং দীর্ঘদিন পর একটি স্থিতিশীল পরিবেশে ব্যবসা করতে পারছেন তারা।একজন ফল বিক্রেতা বলেন,“অনেকদিন পর শান্তিতে ব্যবসা করছি। আগে বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা ছিল, এখন সেগুলো নেই। কেউ ভয়ভীতি দেখায় না।”আরেকজন হকারের ভাষ্য,“বর্তমান সময়ে আমরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারছি। আগে যেসব সমস্যা ছিল, এখন তা অনেকটাই কমেছে। প্রতিদিনের বিক্রিই আমাদের আয়ের উৎস—এখানে কাউকে আলাদা করে কোনো অর্থ দিতে হয় না। ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যার পর দোকানপ্রতি ৩০ টাকা করে বিদ্যুৎ বিল বাবদ অর্থ হকার সমিতির কাছে জমা দেওয়া হয়। ফুটপাতের দোকানে ব্যবহৃত আলোর বিদ্যুৎ খরচ ও কিছু যৌথ ব্যবস্থাপনার জন্য এ অর্থ নেওয়া হয় বলে তারা জানান। একজন পোশাক বিক্রেতা বলেন,“আমরা শুধু ৩০ টাকা করে লাইটের বিদ্যুৎ বিল দিই। এটি সমিতির নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হয়। এর বাইরে কোনো ধরনের চাঁদা নেই।”হকার সমিতির এক সদস্য জানান, সীমিত পরিসরে আলো, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাসহ কিছু যৌথ খরচ মেটাতে সমিতি নিয়ম অনুযায়ী অর্থ সংগ্রহ করে।এখানে অবৈধ কোনো অর্থ আদায়ের প্রশ্নই আসে না,”—যোগ করেন তিনি।ফুটপাতের এক চা বিক্রেতা বলেন,“আমরা সবাই মিলেমিশে ব্যবসা করি। কোনো ধরনের চাপ বা জোরজবরদস্তি দেখিনি।আরেকজন হকার বলেন,“যদি কোনো সমস্যা থাকত, আমরা নিজেরাই আগে বলতাম। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভালো। তাই এসব অভিযোগ শুনে অবাক হয়েছি।কয়েকজন দোকানদার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটপাতে চাঁদা তোলার অভিযোগসংক্রান্ত কিছু পোস্ট দেখলেও বাস্তবে তাদের কাছে কখনও কেউ চাঁদা দাবি করেনি। একজন দোকানদার বলেন,“আমরা কিছুদিন ধরে এমন কথা শুনছি, কিন্তু বাস্তবে কেউ কখনও টাকা চাইতে আসেনি। এটি সম্পূর্ণ গুজব।আরেক ব্যবসায়ী বলেন,এ ধরনের গুজব আমাদের ব্যবসার ক্ষতি করে। মানুষ ভুল ধারণা পোষণ করলে ক্রেতারাও আসতে দ্বিধা করে।একজন ভ্যানচালক বলেন,“আমরা সারাদিন কষ্ট করে উপার্জন করি। আমাদের নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হলে সেটা কষ্টের বিষয়।”ফুটপাতের এক পুরনো ব্যবসায়ীর মতে, আগে তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত।আগে বিশৃঙ্খলা বেশি ছিল। এখন সবাই নিয়ম মেনে নিজ নিজ জায়গায় ব্যবসা করছে। পরিবেশ অনেক ভালো,”—বলেন তিনি।স্থানীয় পথচারীদের সঙ্গেও কথা বলে জানা যায়, আগের তুলনায় ফুটপাত দিয়ে চলাচল এখন অনেক সহজ হয়েছে।একজন পথচারী বলেন“আগে হাঁটতে কষ্ট হতো। এখন পরিবেশ অনেকটাই স্বাভাবিক মনে হয়।আরেকজনের মন্তব্য,ফুটপাত এখন তুলনামূলকভাবে গোছানো। সন্ধ্যার পর আলো থাকায় চলাচলও নিরাপদ মনে হয়।স্থানীয়দের মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া গুজব ছড়ানো হলে ব্যবসায়ী যেমন ক্ষতির মুখে পড়েন, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভুল ধারণা তৈরি হয়।একজন ব্যবসায়ী বলেন,আমাদের অনুরোধ—যাচাই ছাড়া যেন কেউ কোনো তথ্য প্রচার না করেন। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এদিকে, হকাররা প্রশাসনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছড়ানো রোধে নজরদারি জোরদার করার জন্য।তাদের ভাষ্য,যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায়, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে ব্যবসা করতে পারবে।স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতেও মিরপুর-১০ নম্বর ফুটপাতে বর্তমান স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।

