ডেক্স রিপোর্ট : ওয়াশিংটন থেকে আসা এক বক্তব্যে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে তেল ও জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করেও যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।
স্বায়ত্তশাসিত এই আর্কটিক দ্বীপের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব কার্যত উপেক্ষা করে ট্রাম্প বলেন,
“গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমরা কিছু একটা করব—তারা চাইুক বা না চাইুক।গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগোতে চায়। তবে সেই পথ ব্যর্থ হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতেও তারা পিছপা হবে না।“আমি একটি চুক্তি চাই—সহজ উপায়ে। কিন্তু সহজ উপায় সম্ভব না হলে কঠিন পথেই যেতে হবে,”—বলেন ট্রাম্প।খনিজসম্পদে ভরপুর এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।তিনি বলেন,
“আমরা রাশিয়া কিংবা চীনকে গ্রিনল্যান্ডের দিকে এগোতে দেব না। আমরা যদি এগিয়ে না যাই, তারা সেটাই করবে। তাই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমাদের কিছু করতেই হবে—হোক তা সুন্দরভাবে, না হলে আরও কঠিনভাবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক অঞ্চলে বরফ গলতে থাকায় নতুন নৌপথ ও খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর জেরেই বিশ্বশক্তিগুলোর নজর পড়েছে এই অঞ্চলে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রিনল্যান্ডের ওপর দাবি করেনি।বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি থাকলেও, দ্বীপটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বক্তব্যে ডেনমার্কসহ ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং ন্যাটো ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্যও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।তবে ডেনমার্কের এই উদ্বেগকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি ট্রাম্পকে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৩ সালের বিতর্কিত ইরাক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়েছিল ডেনমার্ক।
ট্রাম্প বলেন,ডেনমার্কের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। তারা আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেছে। কিন্তু পাঁচশ বছর আগে সেখানে একটি নৌকা ভিড়েছিল—এটিই তো প্রমাণ নয় যে তারা সেই ভূমির মালিক।এদিকে, কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই বৈঠককে ঘিরে আর্কটিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

