বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের পর সহিংসতায় দেড় হাজারের বেশি প্রাণহানি, ধর্ষণ-নির্যাতন ও মব সহিংসতা উদ্বেগজনক  জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে; ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার জিয়ানগরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত জিয়ানগর হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধে টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন সিরিজ সমতা আনল বাংলাদেশ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষ তাদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট: লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না জ্বালানি,ভোগান্তিতে জনজীবন ডুমুরিয়ায় পাষান্ড স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম ইরানের সঙ্গে বসতে মার্কিন প্রতিনিধিদল পৌঁছাল ইসলামাবাদে
শিরোনাম
যমুনা টিভির সৌজন্যে লাইভ চলছে...
পার্বতীপুরে পশু হাসপাতালে রোগ প্রতিরোধের ভ্যাকসিন নেই
/ ৮৭ টাইম ভিউ
আপডেট : শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:০৯ অপরাহ্ন

রুকুনুজ্জামান, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃদিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে গবাদি পশুর তড়কা রোগ (অ্যানথ্রাক্স), ক্ষুরা ও লাম্পি প্রতিরোধে কোন ভ্যাকসিন নেই।প্রাণী সম্পদ অফিসে ভ্যাকসিন না পাওয়ায় অকালেই মৃত্যু ঘটছে শতাধিক প্রাণির, খামারীরা বিভিন্ন কোম্পনীর ভ্যাকসিন উচ্চমুল্যে কিনতে বাধ্য হচ্ছে। সরকারি ক্ষুরা ষোলমাত্রার এক ভায়েল ভ্যাকসিনের মুল্য ৪০০টাকা, ওই একই ভ্যাকসিন বিভিন্ন কোম্পনীর ফার্মেসি থেকে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায়, সরকারি লাম্পি পাঁচমাত্রার এক ভায়েল ভ্যাকসিনের মুল্য ২৫০টাকা, বাজারের মুল্য ২ হাজার ২শ’ থেকে ২ হাজার ৫শ’ টাকায় খামারীদের কিনতে হচ্ছে। গ্রামের সাধারণ জনগন ও খামারীরা দ্রুত গরুর রোগ প্রতিরোধ ভ্যাকসিনের দাবি জানিয়েছেন।
পার্বতীপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরেনারি সার্জন ডা: মোছাহেব আহমদ নাঈম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বর্তমানে ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধের এফএমডি (ফুট এন্ড মাউথ ডিজিজ), তড়কা রোগ (অ্যানথ্রাক্স) ও লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) প্রতিরোধে কোন ভ্যাকসিন নেই। গত দুই মাস আগে চাহিদা দিয়েও ভ্যাকসিন পাইনি। রোগ প্রতিরোধে প্রতিদিন মাঠে খামারীদের নিয়ে বাড়ীর আঙ্গিনা, পুকুর পাড়, স্কুল ও হাট-বাজারে সচেনতামুলক, উঠান বৈঠকে পরার্মশ ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে ৫৬০টি ও আগষ্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে ১৬০ ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। ৭২০টি প্রাণীকে ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্তৃপক্ষের কাছে ১ হাজার ৯শ’ ২০টি ভ্যাকসিনের জন্য চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে।পার্বতীপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর দাবি করছেন, লাম্পি, ক্ষুরা রোগ মাঠে চলমান রয়েছে। পার্শবর্তী উপজেলায় তড়কা রোগ দেখা দিয়েছে। সবমিলে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস মাঠে কাজ করছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি এই রোগের কোন ভ্যাকসিন নেই। উপজেলায় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬টি গরু রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে খুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ রোগের বৈশিষ্ট গরুর মুখ দিয়ে লালা ঝড়ে, পায়ে খতের সৃষ্টি হয়। এতে গরুর চলাফেরা ও খাওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং অতিদ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। এ রোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তিন শতাধিক গরু আক্রান্ত হয়েছে। ভ্যাকসিনের অভাবে মারা গেছে ১০টি গরু। লাম্পি রোগে আক্রান্ত তিন শতাধিক গরু। মারা গেছে ১৫টা গরু। জুলাই মাসে ৫৬০টি ও আগষ্ট মাসে ১৬০ ভ্যাকসিন পাওয়া যায়।৭২০টি প্রাণিকে ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়। তবে, বিভিন্ন প্রকল্পের অধিনে ২৪টি সমিতির ১ হাজার ২০ জন সদস্য রয়েছে। ওই বরাদ্দ পাওয়া ভ্যাকসিন সমিতির সদস্যের মধ্যে দেয়া হয়েছে। পার্বতীপুরে নিবন্ধিত গাভীর খামার রয়েছে ১১১টি। অনিবন্ধিত খামার আছে ৯৮৫টি। উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভায় বিভিন্ন প্রকল্পের অধিনে ৩০জন প্রাথমিক পল্লীপ্রাণী সেবাদানকারী কাজ করছে। রয়েছে জনবল সংকট। মাত্র উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের উপ-সহকারি প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) ও উপ-সহকারি প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) রয়েছেন।এদিকে, গত ১৯ আগষ্ট থেকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার পদ শুন্য রয়েছে। সবমিলে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর এখন নিজেই খুড়ে খুড়ে চলছে।এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গৃহপালিত ও খামারিরা। গরু লালন-পালন করে আসছেন পার্বতীপুরের ছোট খামারি মুরাদ হোসেন। কিন্তু ১ অক্টোবর হঠাৎ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে একটি শাহিওয়াল বাছুর। কিন্তু মারা যাওয়া বাছুরটির অকাল মৃত্যুর কারণ জানেন না তিনি। খামারি মুরাদ জানান, মুখে ঘাঁ এবং পেট ফুলেই মারা যাচ্ছে বেশির ভাগ গরু। চন্ডিপুর ইউনিয়নের সুমন সরকার, জব্বর আলী ও বুলু মন্ডলসহ একাধিক ছোট-বড় খামারীর গরু লাম্পি রোগে মারা গেছে। গৃহপালিত গরু ও খামারীদের অভিযোগ, প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের লোকজনকে খবর দিয়েও পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে গ্রামের হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত পাঁচ মাসে শতাধিক গরু ইতি মধ্যে মারা গেছে। খামারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই।এব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরেনারি সার্জন ডা. মোছাহেব আহমদ নাঈম বলেন, উপজেলায় ক্ষুরা ও লাম্পি রোগ দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন করে পাশের উপজেলায় তড়কা রোগ (অ্যানথ্রাক্স) দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত পশুগুলোর চিকিৎসা ও খামারীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ক্ষুরারোগ ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। তাৎক্ষণিক সুস্থ করার কোনো ব্যবস্থা নেই। আমরা গরু রাখার স্থান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। রোগ প্রতিরোধে গরুর মালিক ও খামারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আক্রান্ত এলাকায় উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আমাদের পেজ লাইক করুন

Recent Comments

No comments to show.