ডেক্স রিপোর্ট : ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে আসরের মেগা ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। দলের হয়ে স্কোর শিটে নাম লিখিয়েছেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ।৯ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। ১২ মিনিট পেরিয়ে গেলেও তা শেষ হচ্ছিল না। অবশেষে যখন রেফারি বাঁশি বাজালেন, তখনই নিশ্চিত হয়ে গেল, আর্জেন্টিনা আরও একবার চলে গেছে বিশ্বকাপের ফাইনালে। ২০২২ বিশ্বকাপে জেতা শিরোপাটা ধরে রাখার আরও এক সুযোগ আর্জেন্টিনা পাচ্ছে আগামী রোববার।
বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় দু’দল।
এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে এগিয়ে থাকে আর্জেন্টিনা। কিছু সুযোগ তৈরি করলেও তা লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হয় আলবিসেলেস্তেরা। ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরুতেই দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। যদিও রেফারির হস্তক্ষেপে ঘটনা বেশিদূর এগোয়নি। প্রথমার্ধে ১৯টি ফাউল হয়। এর মাঝে ১২টি করে আর্জেন্টিনা এবং ৭টি ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দু’দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণ চালায় ইংলিশরা। সেই ফল পেতে খুব একটা দেরিও হয়নি তাদের। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে মরগান রজার্সের ক্রসে দারুণ এক গোলে ইংলিশদের লিড এনে দেন গর্ডন। ৬৪তম মিনিটে একাদশে পরিবর্তন আনে আর্জেন্টিনা। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের পরিবর্তে মাঠে নামেন নিকো গঞ্জালেজ।
দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন বিরতির পর আরও তিনটি পরিবর্তন আনে আলবিসেলেস্তেরা। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নাহুয়েল মোলিনা ও জুলিয়ানো সিমিওনের বদলে মাঠে নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি, রদ্রিগো দি পল ও গনসালো মন্তিয়েল। ইংল্যান্ড দলেরও একটি পরিবর্তন করা হয়। অ্যান্থনি গর্ডনের বদলে মাঠে নামেন এজরি কনসা।যোগ করা সময়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়েই দিলেন লাউতারো!
লাউতারো মার্তিনেজ!!!
যোগ করা সময়ে আর্জেন্টিনা অবশেষে লিড পেল। ডান পাশ থেকে মেসির দারুণ এক ক্রসে লাফিয়ে ওঠেন লাউতারো। তার আশেপাশেও ইংলিশ কোনো ডিফেন্ডার ছিলেন না, ফাঁকায় দাঁড়িয়ে তার করা হেডার গিয়ে জড়াল ইংল্যান্ডের জালে।আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরালেন এনজো ফার্নান্দেজ
আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরালেন এনজো ফার্নান্দেজ
শর্ট কর্নার থেকে বল নিয়ে বক্সের কাছে আসছিলেন মেসি। বক্সের বাইরে থাকা এনজো ফার্নান্দেজকে বলটা বাড়ান তিনি। পুরো ইংলিশ রক্ষণ মনে করেছিল মেসিই ফিরতি বলটা পাবেন, কিন্তু তা হলো না। এনজো ফার্নান্দেজ ঠাণ্ডা মাথায় বলটা জড়ালেন ইংলিশদের জালে। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে ১-১ গোলে সমতা ফেরাল আর্জেন্টিনা।
এনজো এই চেষ্টাটা বহু আগে থেকে করে আসছিলেন। অন্তত ৩টি শট নিয়েছিলেন। শুরুর দুটো লক্ষ্যের বাইরে দিয়ে গেছে, তৃতীয়টা দারুণভাবে সেভ করেছিলেন পিকফোর্ড, চতুর্থবারের চেষ্টায় ভাগ্যের সহায়তা পেলেন তিনি। আর্জেন্টিনার আশা জিইয়ে উঠল আবারও।আর্জেন্টিনার দুই হেডার ঠেকিয়ে দিলেন পিকফোর্ড
১ মিনিটের ব্যবধানে দুটো দারুণ হেড করেছিলেন আর্জেন্টিনার দুজন। দুবারই ডান পাশ থেকে ক্রস এসেছে, দুবারই একই ফলাফল, পিকফোর্ড দেয়াল তুলে দাঁড়িয়েছেন। সময় ফুরিয়ে আসছে, আর্জেন্টিনার গোল চাই, কিন্তু তা আসছে না!! অবশেষে ২-১ এ জয়ী হলো আর্জেন্টিনা।

