ডেস্ক রিপোর্ট : ২০২৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডকে উৎসাহিত করতে টমাস টুখেল ‘কর্মফল’-এর কথা উল্লেখ করেছেন; এই ম্যাচটি ‘হ্যান্ড অফ গড’ এবং মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো উচ্চতার বেদনাদায়ক স্মৃতি জাগিয়ে তোলে।অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের গর্জন, মেক্সিকো সিটির উচ্চতার কঠিন পরীক্ষা আর শেষ মুহূর্তের প্রবল চাপ—সব বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। নাটকীয় শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ আটে উঠেছে থমাস টুখেলের দল। এবার তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়ে। প্রচণ্ড ঝড়ের কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর শুরু হয় ম্যাচ। বিরূপ আবহাওয়ার সেই প্রভাব কাটিয়ে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় প্রথমার্ধের শেষ দিকে। মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে স্বস্তির অবস্থানে নিয়ে যান জুড বেলিংহ্যাম। প্রথমে দুর্দান্ত এক হেড, এরপর কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে অ্যাজটেকার গর্জন মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দেন ইংলিশ মিডফিল্ডার।
তবে স্বাগতিকরা লড়াই ছেড়ে দেয়নি। বিরতির তিন মিনিট আগে হুলিয়ান কুইনোনেস শক্তিশালী শটে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরান মেক্সিকোকে। এর আগেই রাউল হিমেনেসের দুটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। সেই সেভগুলোই ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রেখেছিল কঠিন সময়জুড়ে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় থ্রি লায়ন্সরা। হেসুস গালার্দোর ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল করায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাহ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর অ্যাজটেকার গ্যালারি যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই চাপের মধ্যেই অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। অ্যান্থনি গর্ডনকে ফাউল করায় পাওয়া পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে আবারও দুই গোলের ব্যবধান এনে দেন কেইন। কিন্তু ম্যাচের নাটক তখনও শেষ হয়নি। কিছুক্ষণ পর নিজেই ফাউল করে মেক্সিকোকে পেনাল্টি উপহার দেন তিনি। স্পট-কিক থেকে রাউল হিমেনেস গোল করলে ব্যবধান নেমে আসে ৩-২ গোলে, আর শেষ কয়েক মিনিটে রীতিমতো রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।চাপ বাড়তে থাকলে কৌশল বদলান টুখেল। ড্যান বার্ন ও জেড স্পেন্সকে নামিয়ে পাঁচজনের রক্ষণভাগ সাজান তিনি। যোগ করা ১১ মিনিটে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও সমতা ফেরাতে পারেনি মেক্সিকো। পিকফোর্ডের দৃঢ়তা, রক্ষণভাগের আত্মত্যাগ আর ইংল্যান্ডের মানসিক দৃঢ়তাই শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করে বহু প্রতীক্ষিত জয়।অ্যাজটেকার মতো প্রতিকূল পরিবেশে এই জয়কে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে দেখছেন ইংল্যান্ডের সমর্থকরা। দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি উতরে গেছে টুখেলের দল। এখন তাদের সামনে নরওয়ে, আর লক্ষ্য আরও একধাপ এগিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট।

