বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
লন্ডনে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সাথে ব্রিটিশ কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের বৈঠক আর্থিক খাতে আস্থা ফেরাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি : অর্থমন্ত্রী তিস্তা ব্যারাজের কাজেও হাত দেবে বিএনপি সরকার : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিরপুর-১০ নম্বর ফুটপাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ ভিত্তিহীন, দাবি ব্যবসায়ীদের ডুমুরিয়ার শোভনায় ছাত্রদল নেতার পিতার মৃত্যুতে শোক পবিত্র ঈদুল আজহা ২৮ মে বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দিয়েছে এনইসি সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে নারী এমপিদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আশুলিয়া মডেল প্রেসক্লাবের ২১ সদস্যের প্রতিষ্ঠাতা কমিটি ঘোষণা: সভাপতি রাজু,সম্পাদক শম্ভু
শিরোনাম
যমুনা টিভির সৌজন্যে লাইভ চলছে...
আর্থিক খাতে আস্থা ফেরাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি : অর্থমন্ত্রী
/ ১ টাইম ভিউ
আপডেট : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ন

বিশেষ প্রতিনিধি  : দেশের আর্থিক খাতে আস্থা পুনর্গঠনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সততা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আর্থিক খাতের সুশাসন ও আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড রিপোর্টিং (এফএআর) সামিট-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ট্রাস্টওয়ার্দি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং: হোয়াট রিয়েলি ম্যাটারস’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। সহযোগিতায় ছিল ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইক্যাব) ও ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)।আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নিয়ন্ত্রক ও তদারকি সংস্থাগুলোর অনেকগুলোই প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। ফলে অডিট, আর্থিক প্রতিবেদন ও নজরদারি কাঠামোয় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসনে দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতি এখন এক ধরনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।অর্থমন্ত্রী ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে আর্থিক শৃঙ্খলার ঘাটতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর আর্থিক প্রতিবেদন দিয়ে অনেক কোম্পানি শেয়ারবাজারে প্রবেশ করেছে। এতে প্রকৃতপক্ষে শক্তিশালী ও ভালো কোম্পানিগুলো ন্যায্য প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বাজারে আসতে নিরুৎসাহিত হয়েছে।সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন ও বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান দুর্বলতার কারণে ব্যাংক ও বেসরকারি খাতে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়েছে।তিনি খেলাপি ঋণ, অর্থ পাচার এবং ব্যাংকের মালিক ও ব্যবস্থাপকদের যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতের ঘটনাগুলোকেও এ সংকটের জন্য দায়ী করেন।আমির খসরু বলেন, আমানতকারীদের অর্থ দিয়ে পরিচালিত হলেও দেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকগুলোকে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালনা করা হয়েছে। এ ধরনের স্বার্থের সংঘাত দূর করে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।পেশাগত দায়িত্ববোধ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তিনি আইক্যাব ও আইসিএমএবির সদস্যদের মধ্যে কঠোর স্ব-নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিবেদনের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার মূল দায়িত্ব হিসাববিদদেরই নিতে হবে।অতীত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, একসময় একটি বেসরকারি খাতের সংগঠনের কাছে ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল এবং তা সফলও হয়েছিল। এতে প্রমাণ হয়, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে স্ব-নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হতে পারে।চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, জেপি মরগান চেজসহ লন্ডন ও হংকংভিত্তিক কয়েকটি বড় বিনিয়োগ কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক হিসাবমান অনুসরণ না হলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে না। বিনিয়োগকারীরা যদি দেখেন যে আর্থিক প্রতিবেদন মানসম্মত নয়, তাহলে সেখানেই সব শেষ।অর্থমন্ত্রী স্বল্পমেয়াদি স্বার্থের বাইরে গিয়ে টেকসই ও পেশাদার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এফআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া। সম্মেলনে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হিসাববিদ, নিরীক্ষক, মূল্য নির্ধারক, অ্যাকচুয়ারি ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।অনুষ্ঠানে আর্থিক বিবরণীর মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বহিরাগত নিরীক্ষা ও অ্যাসিউরেন্স কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়েও পৃথক সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আমাদের পেজ লাইক করুন

Recent Comments

No comments to show.