আওরঙ্গজেব কামাল: দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হলে সবার আগে গণতন্ত্রকে কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর ভাষায়, টানা দেড় দশকের দুঃশাসনে বাংলাদেশ রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে জনগণের হাতে আবারও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ভাষানটেকে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি প্রচারণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, “যখন মানুষ গণতান্ত্রিকভাবে নিজের প্রতিনিধি বেছে নিতে পারে, তখনই সেই প্রতিনিধির কাছে এলাকার সমস্যা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। গণতন্ত্র ছাড়া
জবাবদিহিতা সম্ভব নয়।তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের মত প্রকাশ ও ভোটাধিকার সীমাবদ্ধ থাকায় জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা জমে উঠেছে। এখন মানুষ শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, বাস্তব ও কাঠামোগত পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে কেবল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, গণতন্ত্রের চর্চা শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদসহ প্রতিটি স্তরে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই মাঠের মানুষের কথা জানতে ও বুঝতে হবে—এটাই গণতন্ত্রের মূল শক্তি।সভা মঞ্চ থেকেই তিনি স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাকে ডেকে ভাষানটেক এলাকার মৌলিক সমস্যাগুলো শোনেন এবং বলেন, জনগণের কথা সরাসরি শোনার এই প্রক্রিয়াই প্রকৃত গণতন্ত্রের চিত্র। এ সময় তিনি বলেন,তিনি বলেন, গত ১৫ বছরের দুঃশাসনে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। যদি বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ, গণতান্ত্রিকভাবে যদি আপনারা আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন, তাহলেই একমাত্র এলাকার সমস্যা নিয়ে তার কাছে যেতে পারবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, দলের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্য সচিব মোস্তফা জামানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

