ডেস্ক রিপোর্ট : আমরা দেশ ও জাতিকে আর টুকরো টুকরো করতে চাই না। আর বিভক্ত করতে চাই না। সাম্য ও ঐক্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমাদের হাতকে শক্তিশালী করুন। নির্বাচনে দেশবাসী সেবা করার সুযোগ দিলে আমরা বলব, আসুন আগামী ৫ বছর এক হয়ে দেশ পরিচালনা করি। তবে এক্ষেত্রে তিনটি শর্ত মেনে আসতে হবে, দুর্নীতি করব না, কাউকে দুর্নীতির আশ্রয় দেব না, সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব এবং বস্তাপচা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলেছেন,জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ।শুক্রবার রাতে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীসহ ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জামায়াতের আমির বলেন, ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে, দুর্নীতি যেন আর সমাজে চলাফেরা করতে না পারে—এমন দেশ ও সমাজ গড়ার জন্য দেশবাসী মুখিয়ে আছে। বিশেষ করে যেসব যুবক গণঅভ্যুত্থানে রক্ত দিয়েছে তারা মুখিয়ে আছে। আমরা তাদের কাছে ওয়াদাবদ্ধ; তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে যতদিন লড়াই চালিয়ে যেতে হয়, আমরা প্রস্তুত। এ লড়াই থামবে না; এ লড়াই তখনই পূর্ণতা পাবে যখন জনগণ ও যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে।তিনি বলেন, ৫ তারিখের পরিবর্তনের পর ভেবেছিলাম আমরা পতিত সরকার থেকে শিক্ষা নেব। মানুষের সম্পদ, ইজ্জত ও জীবনের দিকে হাত বাড়াব না। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। আমরা বলেছিলাম—একজন সাধারণ নিরীহ মানুষকেও অভিযুক্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। কাউকে মামলায় আসামি বানানো হবে না। তাই আমরা হাজার হাজার মামলা করিনি; ৮টি মামলা করেছি যেখানে আসামি মাত্র একজন। আমরা চাই না কেউ প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কিংবা কেউ লোভ-লালসার শিকার হয়ে একদিনের জন্যও জেল খাটুক। সাড়ে ১৫ বছর দফায় দফায় জেলে গিয়েছি। আমরা নিজেরা মজলুম হয়েছি, কাউকে মজলুম বানাতে চাই না।তিনি আরও বলেন, আমরা সাম্য, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা চাই যেসব যুবক মৌলিক দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমে বলেছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, সেই ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ গড়তে। এই বাংলাদেশ গড়ার কথা যারা বলবে, তাদের নিজেদের চরিত্রের প্রমাণ দিতে হবে যে তারা এর জন্য উপযুক্ত। কোনো অসৎ, দুর্নীতিবাজ যদি অনেক সুন্দর করে গল্প শোনায়, তাদের কথা বিশ্বাস করা যাবে না। তারা নির্বাচনে রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে চতুর্থ আসমানে পাঠাবে। তারা ধোঁকাবাজ, তাদের চিনে রাখবেন। তাদের ‘ইয়েস’ নয়, বলবেন ‘তোমাদের জন্য লাল কার্ড’।জামায়াতের আমির বলেন, আমরা কাউকে বেকার ভাতা দেব না। দেশে বেকারের কারখানা করতে চাই না। প্রত্যেক কর্মক্ষম নারী-পুরুষের দুহাতকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। বেকারদের হাতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দিতে চাই।নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে বলছেন নির্বাচিত হলে কর্মক্ষেত্রে মা-বোনেরা সুযোগ পাবেন কি না। ঘরের ভেতরে মা-বোনেরা চলতে পারলে সমাজে চলতে পারবেন না কেন? ঘর যেমন নারী ছাড়া চলে না, সমাজও নারী ছাড়া চলবে না। দক্ষতা অনুযায়ী সকল জাতি ও ধর্মের নারীদের কাজের সুযোগ করে দেওয়া হবে।রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, শিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, রংপুর-১ আসনের প্রার্থী রায়হান সিরাজী, রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম রব্বানী, রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিনসহ জামায়াত ও শিবিরের নেতারা। শেষে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং আগামী নির্বাচনে তাদের জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।

