বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের পর সহিংসতায় দেড় হাজারের বেশি প্রাণহানি, ধর্ষণ-নির্যাতন ও মব সহিংসতা উদ্বেগজনক  জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে; ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার জিয়ানগরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত জিয়ানগর হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধে টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন সিরিজ সমতা আনল বাংলাদেশ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষ তাদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট: লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না জ্বালানি,ভোগান্তিতে জনজীবন ডুমুরিয়ায় পাষান্ড স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম ইরানের সঙ্গে বসতে মার্কিন প্রতিনিধিদল পৌঁছাল ইসলামাবাদে
শিরোনাম
যমুনা টিভির সৌজন্যে লাইভ চলছে...
যশোরের ৬ আসনের মধ্যে ৪টিতেই প্রার্থী পরিবর্তন বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তে অস্থিরতা, সমর্থকদের হতাশা—তবে ঐক্যের আহ্বান নেতাদের
/ ১৩৯ টাইম ভিউ
আপডেট : শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:১৭ অপরাহ্ন

মীর রাজিবুল হাসান নাজমুল যশোর থেকে : যশোর জেলা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জেলা। বর্তমানে জেলার অধীনে মোট ৬টি জাতীয় সংসদীয় আসন রয়েছে। এসব আসন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। তবে এবারের নির্বাচন ভিন্ন । শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ছাত্র জনতার দাবীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থগিত হওয়ায় এবারে নির্বাচনে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এবার নির্বাচনে বিএনপির সাথে জামাতের লড়াই হবে। যে কারনে আসন্ন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতেই প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর মধ্যে একটি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জোটের শরিক দলকে। হঠাৎ এই পরিবর্তনে মাঠপর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি কোথাও কোথাও হতাশা দেখা দিলেও দলীয় নেতৃত্ব ঐক্য বজায় রেখে নির্বাচনে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। যশোর-১ (শার্শা) আসনে প্রথমে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনি এক মাসের বেশি সময় ধরে এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচার চালান। তবে পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্তে তার পরিবর্তে শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। প্রার্থী পরিবর্তনের খবরে তৃপ্তির অনুসারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিলেও নুরুজ্জামান লিটনের সমর্থকরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে মাঠে নেমেছেন। এ বিষয়ে মফিকুল হাসান তৃপ্তি বলেন,“নেতাকর্মীদের শান্ত থাকতে বলেছি। ঢাকা থেকে ফিরে সবার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। আমি মনোনয়নপত্র জমা দেব। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া, অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পান বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ূব। পরে দল থেকে জানানো হয়, চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান ফারাজী। তবে দলীয় সূত্র বলছে, বাস্তবে টিএস আইয়ূবই মূল প্রার্থী এবং মতিয়ার রহমান ফারাজীকে ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে রাখা হয়েছে। কোনো কারণে আইয়ুবের মনোনয়ন বাতিল হলে তখন ফারাজীকে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হবে। ২৫ ডিসেম্বর মতিয়ার রহমান ফারাজীকে ব্যাকআপ হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আমার কিছু ব্যাংকসংক্রান্ত জটিলতা ছিল, সেগুলো এখন সমাধান হয়েছে। এরপর তারেক রহমান আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আগামী ২৯ ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় বাঘারপাড়া উপজেলায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেব। অন্যদিকে মতিয়ার রহমান ফারাজী বলেন, “দলের কাছে মনোনয়ন চাইলে আমাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। অভয়নগর, বাঘারপাড়া ও বসুন্দিয়া এলাকার মানুষ আগে থেকেই প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এছাড়া টিএস আইয়ুব চারটি ব্যাংকের ঋণখেলাপি—ঢাকা ব্যাংকের ঋণ পুনঃতফসিল চেয়ে করা আবেদন আদালত খারিজ করেছেন। যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন। পরে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয় জোটের শরিক দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম (একাংশ)-কে। এ আসনে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে। এতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। তিনি দেড় মাসের বেশি সময় ধরে এলাকায় সক্রিয়ভাবে প্রচার চালান। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাদ দিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। ২৪ ডিসেম্বর রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তার হাতে মনোনয়নপত্র তুলে দেওয়া হয়। তবে যশোর জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে কেবল দুটি আসনে প্রার্থীরা আপাতত ‘নিশ্চিন্ত’ রয়েছেন—যশোর-২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা): উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানা মুন্নী, যশোর-৩ (সদর): বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত,এই দুই আসনে এখন পর্যন্ত কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এদিকে
প্রার্থী পরিবর্তন নিয়ে নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন,“দীর্ঘদিন যারা দলের জন্য কাজ করেন, মনোনয়ন না পেলে মন খারাপ হওয়াই স্বাভাবিক। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত আমাদের সবাইকে মানতে হবে। মনোনয়ন দাখিলের পর সবাইকে নিয়ে বসবো। আশা করছি, ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাই কাজ করবে।
উল্লিখিত ১৯৭৩ সাল থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী এই আসন গুলিতে দখলে ছিলেন- যশোর-১ (শার্শা উপজেলা)
১৯৭৩ — কাজী খাদেমুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ)
১৯৭৯ — গোলাম মোস্তফা (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল)
১৯৮৬ — নূর হুসাইন (জামায়াতে ইসলামী)
১৯৮৮ — কে এম নজরুল ইসলাম (জাতীয় পার্টি)
১৯৯১ — তবিবর রহমান সর্দার (আওয়ামী লীগ)
১৯৯৬ (ফেব) — মফিকুল হাসান তৃপ্তি (বিএনপি)
১৯৯৬ (জুন) — তবিবর রহমান সর্দার (আওয়ামী লীগ)
২০০১ — আলী কদর (বিএনপি)
২০০৮ — শেখ আফিল উদ্দিন (আওয়ামী লীগ)
২০১৪ — শেখ আফিল উদ্দিন (আওয়ামী লীগ)
২০১৮ — শেখ আফিল উদ্দিন (আওয়ামী লীগ)
২০২৪ — শেখ আফিল উদ্দিন (আওয়ামী লীগ)
যশোর-২ (ঝিকরগাছা ও চৌগাছা)
২০১৮ — নাসির উদ্দিন (আওয়ামী লীগ)
যশোর-৩ ( যশোর সদর)
২০১৮ — কাজী নাবিল আহমেদ (আওয়ামী লীগ)
যশোর- ( আবাইনারাগর-বাঘারপাড়া)
২০১৮ — রণজিৎ কুমার রায় (আওয়ামী লীগ)
যশোর-৫ (মনিরামপুর)
২০১৮ — শওপন ভট্টাচার্য (আওয়ামী লীগ)
যশোর-৬ ( কেশবপুর)
১৯৭৩ — আবুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ)
১৯৭৯ — এ. এম. বদরুল আলী (বিএনপি)
১৯৮৬ — আব্দুল হালিম (আওয়ামী লীগ)
১৯৮৮ — আব্দুল কাদের (জাতীয় পার্টি)
১৯৯১ — মোঃ সাখাওয়াত হোসেন (জামায়াতে ইসলামী)
১৯৯৬ (ফেব) — মোঃ সাখাওয়াত হোসেন (বিএনপি)
১৯৯৬ (জুন) — আবু শরাফ হিজবুল কাদের সাদেক (আওয়ামী লীগ)
২০০৮ — শেখ আব্দুল ওহাব (আওয়ামী লীগ)
২০১৪ — ইসমত আরা সাদেক (আওয়ামী লীগ)
২০১৮ — ইসমত আরা সাদেক (আওয়ামী লীগ)
২০২০ সালে — শাহীন চাকলাদার (আওয়ামী লীগ)
২০২৪ — আজিজুল ইসলাম (স্বতন্ত্র)

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আমাদের পেজ লাইক করুন

Recent Comments

No comments to show.