শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দারিদ্র্য দূর করে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে চাই : মির্জা ফখরুল হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: জালানী প্রতিমন্ত্রী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অসহায় ও ভূমিহীনদের উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২শ’ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সরকার ১৮০ দিনের কর্মসূচির আলোকে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী জনকল্যাণ কর্মসূচির বিরোধিতাকারীদের সম্পর্কে দেশবাসীকে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বৈশাখে মাতলো সারাদেশ, আনন্দোৎসবে বাংলা নববর্ষ উদযাপন
শিরোনাম
যমুনা টিভির সৌজন্যে লাইভ চলছে...
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণতন্ত্র রক্ষার বাস্তবায়ন সম্ভাবনা কতটুকু?
/ ১০২ টাইম ভিউ
আপডেট : রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৩০ অপরাহ্ন

আওরঙ্গজেব কামালঃ গণতন্ত্র কোনো একদিনে অর্জিত কিংবা চিরস্থায়ী হয়ে যাওয়া ব্যবস্থা নয়। এটি একটি চলমান ও বিকাশমান প্রক্রিয়া, যা টিকে থাকে নিয়মিত চর্চা, জবাবদিহি, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের সক্রিয় অংশ গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। অথচ বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশে গণতন্ত্র রক্ষার বাস্তবায়ন সম্ভাবনা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিএনপি,জামাত ও এনসিপির মত আলোচিত রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের মধ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন যেটা প্রকাশ্য রুপ নিয়েছে যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ। বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং আস্থার সংকট ক্রমশ গণতান্ত্রিক কাঠামোকে নড়বড়ে করে তুলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঘটনা এই উদ্বেগকে আরও গভীর করেছে। ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড এবং খুলনার আড়ংঘাটায় সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলন হত্যার মতো ঘটনা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যেখানে নাগরিকের জানমাল ও নিরাপত্তাই নিশ্চিত নয়, সেখানে গণতন্ত্র কতটুকু কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব—এই প্রশ্ন আজ সর্বসাধারণের মুখে মুখে ঘুরছে। দেশের অভ্যন্তরে যেমন, তেমনি আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, যে গণতন্ত্রের জন্য দেশবাসী দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছে, সেই গণতন্ত্রকেই পরিকল্পিতভাবে পেছনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। একটি বিশেষ মহল জনগণের মধ্যে এমন ধারণা ছড়িয়ে দিচ্ছে যে গণতন্ত্র এলে দেশ অস্থিতিশীল হবে, জনগণের ভোটে কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। অথচ ইতিহাস ও বৈশ্বিক বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলে—বিশ্বের প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই জনগণের ভোটের মাধ্যমেই ক্ষমতার পরিবর্তন ও রাষ্ট্রের অগ্রগতি ঘটেছে। বর্তমান বাস্তবতায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস, সংঘাত এবং সহনশীলতার অভাব গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করছে। নির্বাচন ব্যবস্থা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বিরোধী মতের প্রতি সহনশীলতা এবং আইনের শাসন—এই মৌলিক গণতান্ত্রিক স্তম্ভগুলো আজ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অনাস্থা, ভোটাধিকার প্রয়োগে মানুষের অনাগ্রহ ও হতাশা গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণতন্ত্র রক্ষার পথ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। কারণ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গুণগত পরিবর্তনের বদলে দলতন্ত্র, ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা এবং সংকীর্ণ স্বার্থের রাজনীতি ক্রমেই প্রাধান্য পাচ্ছে। রাজনীতি অনেক ক্ষেত্রে জনসেবার পরিবর্তে পেশা বা জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হয়ে উঠছে, যা গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় হুমকি। রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতা এবং দলীয় সংকীর্ণতা গণতন্ত্রের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, রাষ্ট্রব্যবস্থা ক্রমেই গণতান্ত্রিক ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মতো বড় রাজনৈতিক ঐক্য বর্তমান সময়ে অনুপস্থিত, যে ঐক্যর মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুথান শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছে এবং একটি সুশাসনের রাষ্ট্র প্রতিষ্টার আশার আলো জাগিয়েছিল। দেশে একটি নিরেপেক্ষ সরকার তৈরী হয়েছে কিন্ত আমার প্রশ্ন যারা এই সরকারকে গঠন করেছে এখন তারা কেন সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে। এদিকে ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন । যেটা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একফালি আলো উকি মারছে। কিন্ত দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা চলমান। যা গণতন্ত্রকে সুসংহত করার পথে বড় অন্তরায়। ঐক্যের অভাব গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংস্কারকে দুর্বল করে দিচ্ছে। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার অন্যতম শর্ত হলো শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে—রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে পারছে না। বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত দুর্বল হওয়াই স্বাভাবিক। এ ছাড়া নাগরিক অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকতা, নাগরিক সমাজ এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর চাপ বাড়ছে—এমন অভিযোগ দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার তুলে ধরছে। ভয়ের পরিবেশে গণতন্ত্র কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে, বাস্তবে নয়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কিছুটা সচল হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ রয়ে গেছে। ঘুষ, দলবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে পুলিশ বাহিনী এখনো মুক্ত হতে পারেনি—এমন অভিযোগ রয়েছে। পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার বালীপাড়া গ্রামে দুলাল নামের এক দিনমজুরকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো কিংবা মিরপুর থানায় এশিয়ান টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার শিহাবউদ্দীনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার ঘটনা সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা আজও নিরাপদ বোধ করছেন না। তবে এত হতাশার মাঝেও সম্ভাবনা একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক চেতনা ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রমাণিত হয়েছে। যেটা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় পরিলক্ষিত হয়েছে। দেশের শিক্ষিত তরুণ সমাজ, সচেতন নাগরিক, স্বাধীন গণমাধ্যম ও সক্রিয় সুশীল সমাজ চাইলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সংলাপের সংস্কৃতি এবং সহনশীল রাজনীতির চর্চা এবং বর্তমান সরকারের নিরেপেক্ষ ভূমিকা। গণতন্ত্র রক্ষার বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব, যখন ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ কমবে, জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষা—এই তিনটি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্রকে টেকসই করা সম্ভব নয়।সবশেষে বলা যায়, গণতন্ত্র রক্ষা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সমাজ—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে গণতন্ত্র আরও সংকুচিত হবে। আর সফল হলে—একটি জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম হবে।
লেখক ও গবেষক:
আওরঙ্গজেব কামাল
সভাপতি
ঢাকা প্রেস ক্লাব ও
আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব

 

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আমাদের পেজ লাইক করুন

Recent Comments

No comments to show.