ফরিদপুর প্রতিনিধি: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফরিদপুর জেলা কমিটির সাবেক সহসভাপতি ও পতিত সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদসহ তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ছাত্র–জনতা। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় ফরিদপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আলটিমেটাম দেওয়া হয়। ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি মুরাদ শেখের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুলাই–২৪ গণ–আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় ছাত্রনেতা মেহেদী হাসান, সাইফ খান, ফারহান নাইম, তামজিদ সিওনসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জুলাই–২৪ আন্দোলনের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য সচিব মো. সোহেল রানা। তিনি বলেন, সম্প্রতি ফরিদপুরে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন বহিষ্কৃত নেতা এ কে আজাদ। তাঁর নেতৃত্বে অতীতের দোসর ও ‘পেটুয়া’রা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যারা অতীতে ছাত্র–জনতার রক্ত ঝরিয়েছিল।সোহেল রানা অভিযোগ করে বলেন, এ কে আজাদ আওয়ামী
লীগের পতনের পরও বিভিন্ন সভা–সমাবেশ ও জনসংযোগের মাধ্যমে দলটিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। কিছু দিন আগে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের পদধারীরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন, যা জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ কে আজাদ ও তাঁর সহযোগীদের অবৈধ ও অপসাংবিধানিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটলে তার দায় প্রশাসন ও এ কে আজাদকেই নিতে হবে।অন্যদিকে, এ কে আজাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় যুবদলকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা ও মহানগর যুবদল।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, গত ১৯ অক্টোবর ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর বাজারে এ কে আজাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় যুবদলের কোনো নেতাকর্মী বা ইউনিটের সম্পৃক্ততা নেই। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজেও তা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ করেন, এ কে আজাদ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যুবদলকে জড়িয়ে ভিত্তিহীন বক্তব্য দিচ্ছেন, যা যুবদলের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা। তিনি বলেন, ওই দিন স্থানীয় জনতা এ কে আজাদের গাড়িবহরের সঙ্গে থাকা চিহ্নিত সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সন্ত্রাসীদের দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়লে এ কে আজাদ স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন।সংবাদ সম্মেলন শেষে জেলা ও মহানগর যুবদলের উদ্যোগে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে শহর প্রদক্ষিণ শেষে জনতা ব্যাংক মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় জেলা যুবদলের সভাপতি রাজিব হাসান, মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এম ইউসুফ, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজাওয়ান বিশ্বাস তরুণ, সহসভাপতি জাহিদুর রহমান, সহসাধারণ সম্পাদক নাসির খান, কোষাধ্যক্ষ ইলিয়াস মোল্লা, মৎস্য ও প্রাণী বিষয়ক সম্পাদক গালিব ইবনে হান্নানসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।বক্তারা দাবি জানান, এ কে আজাদ ও তাঁর সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

