আনিস প্রধান পঞ্চগড় : জমে উঠেছে আসন্ন সংসদ নির্বাচন এর মাঠ পর্যায়ে নেতাদের আপ্রাণ গনসংযোগ। পঞ্চগড় জেলার ১ নং আসনে নির্বাচনে লড়াই হতে চলেছে বিএনপি, জামাত,এনসিপি,ও জাতীয় পার্টি ও গনতান্ত্রিক জাতীয় পাটি (জাগপা)সহ ৫ টি মুখ্য দল। এ ছাড়াও রয়েছে জাসদ, যিনি পঞ্চগড় ১ আসনের জন্য লড়তে পারেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অমীমাংসিত নেতা ও পঞ্চগড় ১ আসনের সাবেক সাংসদ নাজমুল হক প্রধান। যদিও ইসলামী আন্দোলনসহ আরো কিছু দল ভোটে অংশ গ্রহন করতে পারে। তবে তাদের আপাতত মাঠ পর্যায়ে ভুমিকা গৌন।প্রত্যেক নেতা কর্মীরা ইতিমধ্যে ভোটারদের নিকট নিজেদের সমর্থন আদায়ে সচেষ্ট । প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে উক্ত দলের নেতাদের জনসংযোগ। কিন্তু মাঠ জরীপে পেক্ষাপট ভিন্ন। একাধিক সাধারণ জনগনের সাথে কথা বলে জানা যায়। মাঠে যতই জনসংযোগ করুক, আমরা আমাদের ভোট পঞ্চগড় জেলার উন্নয়নে যোগ্য ব্যক্তিকেই দিব বলে মন্তব্য করেন। যেহেতু পঞ্চগড় ১ আসন দেশের সর্ব উত্তরের জনপদে অবস্থান। এখানকার অধিকাংশ পরিবার ভারত ভাগের পর ও ১৯৬৫ সালের রায়টে জীবণ বাঁচাতে ভারতের জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি হতে মাইগ্রেট করে জেলায় স্থায়ী বসবাস করে আসছে। তাই তারা ভারত বিদ্বেষ মনোভাবে লালিত। যে দল ভারত বিদ্বেষী যত বেশি, তার প্রতি এ ভোট যেন ফিক্সড ডিপোজিট। অন্যদিকে রয়েছে সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের ভোট। এ ভোটের প্রতি রয়েছে সবার বিশেষ নজর। গত দুর্গাপূজায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন কাড়তে সকলে সচেষ্ট। পূজা মন্দীর পাহাড়া সহ বিভিন্ন কার্যক্রম অনেক দলের নেতা ও সেচ্ছাসেবীদের দেখা গেছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে জানা গেছে পঞ্চগড় জেলার ১ আসন থেকে বিএনপির পক্ষে সাবেক ৬ বারের মন্ত্রী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি ব্যরিষ্টার জমির উদ্দিন সরকার এর পুত্র, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিষ্টার নওশাদ জমির ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করবেন। বিগত আওয়ামী স্বৈরশাসকের চরম দূর্দিনে তিনি পঞ্চগড় জেলা বিএনপিকে সংঘবব্ধ রেখেছিলেন। তা ছাড়া তার পিতা ব্যারষ্টার জমির উদ্দীন সরকার এর অবদান জেলা মানুষের নিকট অনস্বীর্কায। তবে বর্তমান জেলা বিএনপিতে রয়েছে গ্রুপিং। এর প্রভাব আগামী নির্বাচনে কিছুটা পরবে বইকি। এদের পাশ কাটাতে না পারলে বিধি বুমেরাং হতে পারে। অন্যদিকে জামাতি ইসলামের পঞ্চগড় জেলা আমির মোঃ মৌঃ ইকবাল হোসাইন নির্বাচনে আাসবেন। তবে বিগত দিনে জামাত মাঠে সক্রিয় না, থাকলেও বিগত প্রায় ১৭ বছর তদের উপর চলেছিল মামলা হামলা ও ব্যাপক নির্যাতন। এত চড়াই উতরাই পেরিয়েও তারা গোপনে তাদের দল সুসংঘঠিত করে আসছিল। তথ্যে জানা যায় ইতি মধ্যে জেলার গ্রামে গ্রামে মহিলাদের তালিম নামক একটি ধর্মীয় প্রচারণায়, গ্রামের অসংখ্য মহিলা কুরআন, হাদীস ও নামাজের নিয়ম শিক্ষায় জেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামের কোন বড়ীতে তালিমে অংশগ্রহণ করে আসছে দীর্ঘদিন বছর ধরে । তাদের অধিকাংশ ভোট বাংলাদেশ জামাতি ইসলামের পক্ষে যাবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। পাশপাশি জামাতের ভোট আগের চেয়ে বেশ বেড়েছে। সব মিলিয়ে জামাত হুমকি হতে পারে বলে সচেতন মহল ধারণা করছে। অন্যদিকে সদ্য জুলাই আন্দোলন এর পর নব্য জন্মানো রাজনৈতিক দল এনসিপির রংপুর বিভাগীয় প্রসিদ্ধ নেতা সার্জিশ আলম নির্বাচন এ অংশ গ্রহন করবেন। যিনি জুলাই আম্দোলনের একজন সক্রিয় যোদ্ধা ও সম্বনয়ক ছিলেন।ইতি মধ্যে তিনি জুলাই অভ্যুত্থান এর পর পঞ্চগড় জেলা মানুষের কাছে পরিচিত হতে তার রাজনৈতিক কর্তব্য অব্যাহত রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে ১৫০ শতাধিক গাড়ি বহর ও হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে জেলায় শো ডাউন করেছেন। এতে তার পরিচিতি হলেও অনেক সমালোচনার জন্মও হয়। তবে ছাত্র ও নবীনরা তার পক্ষে ঝুকছেন। এছাড়াও তিনি পঞ্চগড় ১ আসনের তিন উপজেলার পশ্চিম দক্ষিনের উপজেলা আটয়ারী তার জন্ম স্থান হওয়ায় সেখানকার ভোটারদের কাছে তার বাড়তি সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে তরুন রাজনীতিবিদ হিসেবে সারজিস আলমকে সকল দল হিসেব করছে। ইতিমধ্যে তিনি জেলার অনেক সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার সহ সমাধানের চেষ্টা করছেন।জেলা জাতীয় পার্টির অবস্থা একেবারে নাজুক নয়। জাতীয় পার্টির সমর্থক ও আওয়ামী সমর্থক ভোটাররা, বিদ্বেষী হলে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। আওয়ামীলীগ নির্বাচনে আসবে কি না তা নিয়ে ভোটার রা সন্দীহান! বিগত নির্বাচন গুলোতে দিনের ভোট রাতে হলেও ভোটের পারসেন্ট ৫ থেকে ১০%। তাই হাসিনার পালিয়ে যাওয়া, মন্ত্রী ও এমপি এবং নেতাদের পালিয়ে যাওয়ায় কি হবে? জনগন সন্দিহান। জাতীয় গনতান্ত্রীক ( জাগপা) পার্টির ইন্জিনিয়ার রাশেদর প্রধান। তিনার পিতা দীর্ঘ আমরন জীবণে পঞ্চগড় জেলা মানুষের জন্য জেল জুলুম, হুলিয়া কাধে নিয়ে জেলা মানুষের জন্য তার শ্রেষ্ঠটাই করছেন। তার সমস্ত জীবন পঞ্চগড় জেলা মনুষের জন্য উৎসর্গ করলেও, জেলার মানুষ তার উৎসর্গ উপলব্ধি করেনি। মরহুম শফিউল আলম প্রধান এর মৃত্যু হওয়ায় তার পুত্র বেশকিছু পিতার সিম্পেথি ভোটসহ দলীয় ভোট দখলে রাখবেন। তবে ঘটনা যাই হোক।আসছে এগিয়ে দিন, সমনে নির্বাচন। ভোট যদি সুষ্ঠু হয় তবে, জনগন তার শ্রেষ্ঠ টাই করবে বলে সচেতন মহল মনে করছে।

