মোঃ জাহাঙ্গীর আলম রাজু গাজীপুর থেকে : গাজীপুরে নকল (কপি) সিগারেটকে ঘিরে একটি সুসংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে—এমন তথ্য মিলেছে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে। অভিযোগ রয়েছে, দেশি-বিদেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের আদলে তৈরি করা এসব সিগারেট হুবহু নকল করে বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কোম্পানি British American Tobacco-এর বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্র বলছে, এই অবৈধ বাণিজ্যের মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অথচ জড়িত মূলহোতারা এখনো আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে।
কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এই চক্র :
তদন্তসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে—বিশেষ করে রাজশাহীর কিছু এলাকায়—গোপনে নকল সিগারেট উৎপাদন করা হয়। এরপর পরিবহন ও কুরিয়ার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এসব পণ্য গাজীপুরে আনা হয়।
গাজীপুরকে কেন্দ্র করে একটি সুসংগঠিত সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যার মাধ্যমে এসব সিগারেট দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। ফুটপাতের হকার থেকে শুরু করে খুচরা ও পাইকারি দোকান—সব স্তরেই পৌঁছে যাচ্ছে এসব পণ্য।ফলে সাধারণ ক্রেতারা অনেক সময় বুঝতেই পারছেন না, তারা আসল না নকল পণ্য কিনছেন।
অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে যাদের নাম উঠে এসেছে :
বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে কয়েকজনের নাম প্রাথমিকভাবে সামনে এসেছে, যারা এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—মোহাম্মদ হাফিজ (২৮), কোনাবাড়ী
নিরঞ্জন বাবু (৪০), গাজীপুর বাইপাস,রোকন (৩৫), নাওজোর। তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা প্রমাণ এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত নয়। তদন্তের স্বার্থে বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি ও প্রভাবশালী মহলের ছায়া। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে কিছু অসাধু প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা বা ছত্রছায়ায় এই অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এর ফলে একদিকে যেমন সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব, অন্যদিকে বাজার ভরে যাচ্ছে নিম্নমানের ও অনিয়ন্ত্রিত পণ্যে।
জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি :
বিশেষজ্ঞদের মতে, নকল সিগারেট কেবল অর্থনৈতিক অপরাধ নয়—এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি। এসব পণ্যে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান নিয়ন্ত্রিত না থাকায় ভোক্তারা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এ বিষয়ে জরুরি তদন্ত ও সমন্বিত অভিযানের দাবি :
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে দ্রুত তদন্ত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সমন্বিত উদ্যোগেই এই চক্রকে শনাক্ত ও দমন করা সম্ভব।

